মাস্কিং এসএমএস বা ব্র্যান্ড এসএমএস কি ?

মাস্কিং এসএমএস বা ব্র্যান্ড এসএমএস কি ?

সহজ করে বললে – ব্র্যান্ড এসএমএস হলো কোনো প্রকার সিম কোম্পানির নম্বর থেকে এসএমএস না গিয়ে, আপনার নিজস্ব কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের নাম অথবা অন্য একটি ইউনিক নম্বর থেকে গ্রহকের নিকট আসা এসএমএস।

এক্ষেত্রে আপনি আপনার কোম্পানির বা ব্র্যান্ডের নিজস্ব নামে অথবা ইউনিক নম্বর থেকে আপনার গ্রাহকের কাছে এসএমএস পৌঁছে দিতে পারবেন। ফলে গ্রাহক সহজেই বুঝতে পারবে এসএমএস কোথা থেকে এসেছে এবং কে পাঠিয়েছে।

সর্বোপরি এটি তার জন্য আদৌও জরুরি কি-না। ঠিক এই কারণেই ব্র্যান্ড এসএমএস, কোন প্রকার সিম নম্বর থেকে আসা এসএমএস এর থেকে বেশি গ্রহণীয়তা পায়।

এখন ঐ গ্রাহকের কাছে আসা সকল এসএমএস এর মধ্যে পড়ে ফেলার জন্য উনি সহজে এবং সর্বপ্রথমে কোনটাকে নির্বাচন করবেন! তা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন! হ্যাঁ ব্র্যান্ড বা কোম্পানির থেকে আসা এসএমএস টিই সর্বোপ্রথম পড়ার জন্য আগ্রহ বোধ করবেন উনি।

 

ব্র্যান্ড এসএমএস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে:

একটি মাস্কিং ব্র্যান্ড এসএমএস সার্ভিস।
এবং নন-মাস্কিং ব্র্যান্ড এসএমএস সার্ভিস।
মাস্কিং ব্র্যান্ড এসএমএস

মাস্ক এর অর্থ হলো মুখোশ। আর মাস্কিং এসএমএস বলতে সেই সকল এসএমএস কে বুঝানো হয়, যা কোনো সিম কোম্পানির নম্বর এর পরিবর্তে যে কোনো কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের নিজস্ব নামে গ্রাহকের কাছে আসে। এই এসএমএসই সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য হয়। কারণ কোম্পানি তার নিজস্ব নামে এসএমএস পৌঁছে দিতে পারে। ফলে গ্রাহক সহজেই এসএমএস টির গুরুত্ব আছে কিনা তা বুঝতে পারবে।

নন-মাস্কিং এসএমএস

এক্ষেত্রে আপনার মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএস না গিয়ে আপনার গ্রাহকের কাছে কয়েকটি সংখ্যা (যেমন- 0967100200) থেকে এসএমএস পৌছাবে। এক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি গোপন থাকবে।

যে কারণে ব্র্যান্ড এসএমএস ব্যবহার করা হয়

ঠিক কি কারণে ব্র্যান্ড এসএমএস ব্যবহার করা হয় তা জানার পূর্বে, আপনাকে জানতে হবে কারা এটি ব্যবহার করে। দেখতে গেলে তো সকলেই এই সিস্টেমের সুবিধা লুফে নিতে পারে। তবে ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ এই সব ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এই সিস্টেমে গ্রাহকদের বার্তা দিয়ে থাকে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিম কোম্পানির অপারেটর, অনলাইন মার্কেটার, ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংক অপারেটর, বিমা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক প্রচারণার কাজে ব্র্যান্ড এসএমএস ব্যবহার করে থাকে।

সুবিধা

দেখে নিয়েছেন কারা এই সিস্টেমে তাদের গ্রাহক বা সেবা গ্রহিতার নিকট বার্তা পৌঁছে থাকে। এতে করে ঐ সকল প্রতিষ্ঠান তাদের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বা তারও বেশি গ্রাহকের নিকট এক ক্লিকে এসএমএস পৌছাতে পারে৷ মূলতঃ এটাই মূখ্য সুবিধা এই সিস্টেমের। আপনি মনে করেন আপনি অনলাইন মার্কেটিং এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করেন। আপনি শুরুতে না হয় অল্প কিছু গ্রাহকদের ম্যানুয়ালি এসএমএস দিতে পারলেন। কিন্তু যখন সেই সংখ্যাটি কয়েক শত বা হাজারে পরিণত হবে, তখন? নিশ্চই সম্ভব হবে না। ঠিক এভাবেই সিম কোম্পানি গুলো তাদের মিলিয়ন মিলিয়ন গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন প্রমোশনাল এসএমএস দিয়ে থাকে একই সাথে।
হঠাৎ কোন রেজিষ্ট্রেশন করার প্রয়োজন হলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের হাজার শিক্ষার্থীদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দিতে এই এসএমএস সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে। এই সুযোগ না থাকলে সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে পারতো না। কারণ মুখে বলে তো একেবারেই সম্ভবই না। আর চিঠি লিখে তা প্রিন্ট করে, খামে ভরে তা বিলি করতে অনেক সময়, লোক আর অর্থ খচর তো হতোই। তার পরও সেই চিঠি না পৌছানোর সম্ভাবনা থেকে যাবে। কিন্তু খুব সহজেই, রেজিস্টার থেকে শিক্ষার্থী, গার্ডিয়ান, কমিটি- মেম্বার , টিচার সবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। ব্র্যান্ড এসএমএস সুবিধার মাধ্যমে প্রত্যেকের কাছে এক ক্লিকে বার্তা দেওয়া যাবে।
এই সিস্টেমে বার্তা পৌঁছে দিতে আপনাকে কোনো মোবাইল অপারেটরের সাহায্য নিতে হয় না। আইডি লগইন করে নিজেই এসএমএস পরিচালনা করতে পারবেন।
ব্র্যান্ড এসএমএস এর মাস্কিং সুবিধা ভোগ করে চাইলে আপনি আপনার আইডিতে ছোট হাত বড় হাতের অক্ষর বসাতে পারেন। চাইলে দুটি অক্ষরের মাঝে ফাঁকা বা হাইপেন রাখতে পারবেন। যেমন- YOURCOMPANY, Your COMPANY, YOUR-COMPANY, Your_Company, yourcompany.

ব্র্যান্ড এসএমএস এর বেলায় সীমাবদ্ধতা দুই প্রকারে হয়ে থাকে:

প্রথমত ব্র্যান্ড এসএমএস আইডি রেজিষ্ট্রেশন করার সময় আপনি ১১ ডিজিটের বেশি অক্ষর ব্যবহার করতে পারবেন না। স্পেস সহ এগারো অক্ষর ব্যবহার করা যাবে। এটিই আইডি তৈরির ক্ষেত্রে একমাত্র সীমাবদ্ধতা।
দ্বিতীয়ত আপনি যে নামে আইডি রেজিষ্ট্রেশন করতে চাইছেন ঐ নামে যদি পূর্ব থেকেই কোনো আইডি থাকে। তাহলে রেজিস্ট্রেশন করার সময় আপনি আপনার কোম্পানির মালিকানার প্রমাণ সার্ভিস প্রোভাইডারকে দিয়ে আপনার নিজের অথবা কোম্পানির নামে আইডি রেজিষ্ট্রেশন করে নিতে পারবেন।

ব্র্যান্ড এসএমএস সার্ভিস নেওয়ার আগে যে সব ফিচার মাথায় রাখতে হয়

বাংলা সাপোর্ট : শুধুমাত্র ইংরেজিতে নয় বাংলাতেও এসএমএস পাঠাতে পারবেন। সার্ভিস নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দিকটা মাথায় রাখতে হবে। বা ইউনিকোড বেইসড যে কোনো ভাষাতেই এসএমএস পাঠাতে পারবেন। এরকম সার্ভিস দিতে পারলে তাদের থেকেই ব্র্যান্ড এসএমএস সার্ভিস গ্রহণ করবেন।
কন্ট্রোল প্যানেল : আপনি তাদের থেকে সার্ভিস গ্রহণ করবেন, যারা খুব সহজ ওয়েব বেইসড কন্ট্রোল প্যানেল নিশ্চিত করে থাকে। এবং সেই কন্ট্রোল প্যানেল থেকে আপনি যেনো সহজেই আপনার রিসিপেন্ট নম্বর ম্যানেজ করতে পারেন। আপনি সহজেই যেনো আপনার এসএমএস ক্যাম্পেইন সেটআপ করতে এবং সিডিউল এস এম এস পাঠাতে পারেন। যারা প্রয়োজন মতো ব্যালেন্স নেওয়ার সুবিধা দান করবে আপনি তাদের থেকেই ব্র্যান্ড এসএমএস সার্ভিস গ্রহণ করবেন।
কাস্টমার সাপোর্ট : কথায় আছে দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভালো। আপনি যদি এমন কারো থেকে সার্ভিস নিয়ে নেন তাহলে পরে পস্তাতে হবে। তাই তাদের থেকেই সাপোর্ট নিবেন যারা ব্র্যান্ড এসএমএস সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনে আপনাকে সাপোর্ট দিবে। যারা ফোন, ফেসবুক, ই-মেইল, লাইভ চ্যাটে আপনাকে সব সময় সাপোর্ট দিতে প্রস্তুত থাকবে। অর্থাৎ সার্ভিস নেওয়ার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। যাদের থেকে সার্ভিস নিতে চলেছেন তারা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাস্টমার সার্ভিস দিবে। এবং তার জন্য কোনো প্রকার মাসিক বা বাৎসরিক চার্জ গ্রহণ করবে না।
ব্র্যান্ড এসএমএস এর মূল্য সম্পর্কে :

ব্র্যান্ড এসএমএস সার্ভিসের মূল্য নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের সার্ভিস নিতে চাইছেন তার উপর। আগেই বলেছি ব্র্যান্ড এসএমএস সার্ভিস দুই ধরনের মাস্কিং এবং নন-মাস্কিং । মাস্কিং সার্ভিস গ্রহন করলে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির নামে আইডি রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন, তাই এতে প্রচারণায় সুবিধা রয়েছে। এক্ষেত্রে মূল্যও বেশি পে করা লাগে। তবে মাথায় রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে আইডি তৈরির প্রসেসিং থাকায় আপনাকে কয়েকদিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার প্রতষ্ঠানের জন্য ব্রান্ড এসএমএস নিতে ক্লিক করুন